Skip to Content

ধাঁধার নাম রুবেল

ধাঁধার নাম রুবেল

Be First!

স্পোর্টস ডেস্ক::
তিনি এসেছিলেন বাংলার ‘লাসিথ মালিঙ্গা’ হয়ে। ভিন্নধর্মী অ্যাকশন আর দুরন্ত গতির বোলিং রুবেল হোসেনের মধ্যে দেখিয়েছিল অপার সম্ভাবনা। তা সেই সম্ভাবনার প্রতি অবিচার করেননি তিনিও। বাংলাদেশের অনেক জয়েরই নায়ক পেসার রুবেল, কখনোবা পার্শ্বনায়ক।

কিন্তু গত কয়েক বছরের রুবেলের মধ্যে সেই ছবিটা কি দেখতে পেয়েছেন? ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এ পর্যন্ত খেলা ১৮ ওয়ানডের কোনোটিতেই দুটির বেশি উইকেট পাননি, উইকেটশূন্য থেকেছেন ছয় ম্যাচে। আর টেস্টের বোলার হিসেবে তো তিনি বরাবরই ‘ব্যাকবেঞ্চার’। ২৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে দুইয়ের বেশি উইকেট পেয়েছেনই মাত্র তিনবার। সর্বশেষ ২০১১-এর আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (৩/৮৪)। টেস্ট, ওয়ানডের তুলনায় টি-টোয়েন্টির অবস্থা কিছুটা ভালো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টি-টোয়েন্টিতেই আছে রুবেলের ৩টি করে উইকেট।

রুবেল আগের মতো জ্বলে উঠছেন না। তাই বলে এটাও বলার উপায় নেই যে তিনি পুরোপুরি নিভে গেছেন। রুবেল আছেন সবকিছুর মধ্যেই, কিন্তু ধাঁধা হয়ে। তাঁর বোলিং থেকে বিষ একেবারে হারিয়ে গেছে, এটা বলা যাচ্ছে না। আবার ব্যাটসম্যানদের বোলিং-বিষে নীল করে দিচ্ছেন, বলা যাচ্ছে না এমনও। প্রায় নয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলার পর নিজেকে কোথায় দেখেন, এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর সম্ভবত নেই রুবেলের কাছেও।

চম্পকা রমানায়েকে বোলিং কোচ থাকার সময়ই রুবেলের আবির্ভাব। রুবেলের গতি আর অ্যাকশনে মুগ্ধ ছিলেন শ্রীলঙ্কান সাবেক পেসার। হাইপারফরম্যান্সের পেস বোলিং কোচ হয়ে চম্পকা আবারও এলে হয়তো রুবেলের খোঁজটাই আগে নেবেন। তবে তার আগে কোর্টনি ওয়ালশের দ্বারস্থ হতে চান রুবেল।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে নিয়ে ফেরা চোটের কারণে ফিটনেস ক্যাম্প করা হয়নি। সুস্থ হয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন মাত্র দুদিন হলো। পরশু প্রথম দিন অর্ধেক রানআপে বোলিং করলেও কাল করেছেন পুরো রানআপে। পেসারদের নিয়ে ওয়ালশের ক্যাম্পটা করতে না পারায় আফসোস থাকলেও বাড়তি কাজ করে সেটা পুষিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা রুবেলের, ‘এখনো অনেক দিন সময় আছে। সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আর যে কয়টা দিন অনুশীলন আছে, তাঁর (ওয়ালশের) সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।’

গত বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে স্লোয়ার বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে চেয়েছেন ‘বাটারফ্লাই’ ডেলিভারি দিয়ে। এখন নাকি সেটা আরও ভালোভাবে রপ্ত করেছেন রুবেল, ‘নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তো একটু ভিন্ন অ্যাকশনে বোলিং করেছি। আপনারা দেখেছেন হয়তো। বিপিএলেও ওই অ্যাকশনেই বোলিং করব। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেলেও তা করার চেষ্টা করব।’

টেস্টের বোলিংয়ে কোথায় দুর্বলতা, সেটা রুবেলই সবচেয়ে ভালো জানেন। ওয়ালশের সঙ্গে সেটা নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা, ‘টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর টেস্ট রেকর্ড অনেক ভালো। কীভাবে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে একইভাবে বোলিং করা যায়, বড় বড় দলের সঙ্গে কীভাবে উইকেট বের করতে হবে, এসব নিয়ে কাজ করব।’

জাতীয় দলে এসে রুবেল পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্রিকেটার জীবনের শুরুটা ব্যাটসম্যান হিসেবে। বাগেরহাট লিগের পর ঢাকায় এসে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে খেলার কথা তাঁর মুখ থেকেই শোনা। তবে জাতীয় দলে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব থাকে পরিস্থিতির দাবি মেটানো। রুবেলদের সেই কাজটা কীভাবে আরও ভালোভাবে করতে হবে, অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং পরামর্শক মার্ক ও’নিলকে আনা হয়েছে মূলত সে কারণেই। রুবেলেরও ইচ্ছা, ব্যাট হাতে পরিস্থিতির দাবি মেটানোর মন্ত্রটা ভালোভাবে রপ্ত করার।

জাতীয় দলের তরুণ পেসারদের সঙ্গে দৌড়ে রুবেল কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন ব্যাট হাতে ভরসা জুগিয়ে। তবে তাঁর মূল কাজ যেহেতু বল হাতে, বোলিংয়ে ঔজ্জ্বল্যটাই ফেরাতে হবে সবার আগে। রুবেল ধাঁধার সমাধান যে হবে তখনই!

পরবর্তী পোস্ট পেতে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে একটিভ থাকুন। নতুনরা পেজে লাইক দিয়ে জয়েন করুন।
Share
Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published.