Skip to Content

হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা ‘চাকরিদাতা’ চক্র

হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা ‘চাকরিদাতা’ চক্র

Be First!

অনলাইন ডেস্ক::

ইউনিসেফের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার ও ম্যাসেঞ্জার পদে নিজ উপজেলা ও ইউনিয়নে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন, ৮৮/৫/এ উত্তর যাত্রাবাড়ী। আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হচ্ছে।’ ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে এভাবেই বিভিন্ন এনজিও ও প্রতিষ্ঠানের নামে অস্থায়ী শাখা খুলে লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। এ ছাড়া জেলা পর্যায়েও অফিস খুলে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

গত মঙ্গলবার রাতে এমন একটি প্রতারক চক্রের কয়েক সদস্যকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেনÑ জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, মার্কেটিং ডিরেক্টর মো. আলমগীর ও কর্মচারী মামুনুর রশিদ। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

কেবল এই একটি চক্রই নয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের আড়ালে বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্র। প্রশাসনের নাকের ডগায়ই তারা চালিয়ে যাচ্ছে এ অপতৎপরতা।

এ চক্রের প্রধান টার্গেট গ্রাম-গঞ্জের হতাশাগ্রস্ত বেকাররা। প্রতারণার ঢাল হিসেবে চক্রটি ব্যবহার করছে গণমাধ্যম ও নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নাম। এ ঢাল ব্যবহার করে কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে-মধ্যে চক্রের মাঠ পর্যায়ের কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরা। ফলে কোনোভাবেই দমন করা যাচ্ছে না চক্রের দৌরাত্ম্য। তাদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়ে জানায়, চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক এনজিও, মাল্টিপারপাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা অফিস গুটিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। ফলে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

চাকরিপ্রাপ্তির নামে জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতারণার শিকার হয়ে এখন সর্বশান্ত বি-বাড়িয়ার নুর মোহাম্মদ, জামালপুরের রবিউল করিম, মারুফ হাসান, ময়মনসিংহের বিল্লাল হোসেন, বাগেরহাটের জয়ন্ত মসিদ ও গোপাল মসিদ।

তারা গতকাল আমাদের সময়কে জানান, ইউনিসেফে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির প্রলোভন দিয়ে জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের কথিত এমডি শফিকুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই এখন সর্বশান্ত। সুপারভাইজার পদে মাসিক ৩২ হাজার ৪০০ আর ম্যাসেঞ্জার পদে মাসিক ২৮ হাজার ৬০০ টাকা বেতনের কথা বলে ওইসব ভুক্তভোগীরা জামানত হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন আড়াই লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত।

শুধু তারাই নয়, প্রতারণার মাধ্যমে চক্রের সদস্যরা এভাবে ৩০ জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকা। চাকরি না পেয়ে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানটির পলাতক এমডি শফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই বিলাল আল আজাদ বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে জনতা সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার শিকার ৩০ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। যারা বিভিন্ন সময়ে প্রায় কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন এই চক্রের হাতে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শাখা অফিস রয়েছে। সেখানেও সক্রিয় তাদের সদস্যরা। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার ওই তিনজনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাকরিদাতা প্রতারক চক্রের সদস্যরা দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, যাত্রীবাহী বাস ও দেয়ালে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দিয়ে প্রথমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তি দেখে দেশের বিভিন্ন জেলার চাকরিপ্রত্যাশী বেকার তরুণ-তরুণী ফোন করেন।

পরে মোবাইল নম্বরগুলো টার্গেট করে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অফিসে ডেকে নেয় প্রতারকরা। এক পর্যায়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। টাকা প্রদানকারীরা নিয়োগপত্র নিয়ে যখন চাকরিতে যোগদান করতে যান তখন জানতে পারেন, নিয়োগপত্রের কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান ভুয়া। বিভিন্ন সময় চাকরিপ্রত্যাশীদের আটক রেখে মুক্তিপণও আদায় করে এসব প্রতারকচক্র। আর মুক্তিপণ না দিলে অনেক সময় মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম মোজাহেরুল হক আমাদের সময়কে বলেন, প্রতিদিনই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যে হারে লোকসংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না কর্মক্ষেত্র। এ কারণে দিন দিন চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’। পড়ালেখা শেষ করলেও জুটছে না কাক্সিক্ষত চাকরি। জেলা শহরে ব্যর্থ হয়ে কাজের সন্ধানে অবশেষে শিক্ষিত এসব বেকার যুবকরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে।

প্রতিযোগিতার যুগে দু-একজন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও অধিকাংশই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এসব ভুয়া চাকরিদাতা প্রতারক চক্র দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে আরও তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী চাকরি প্রত্যাশীরা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন প্রথমেই সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিলে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

পরবর্তী পোস্ট পেতে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে একটিভ থাকুন। নতুনরা পেজে লাইক দিয়ে জয়েন করুন।
Share
Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*